দোকানে সাজানো গহনার মধ্যে মনের মতোটা না পেলে অনেকেই বলেন — "এটার মতোই, কিন্তু একটু ছোট করে বানানো যাবে?" যাবে। সোনার গহনা কাস্টম অর্ডারে বানানো বাংলাদেশে খুব সাধারণ ব্যাপার, এবং বেশির ভাগ বিয়ের সেট এভাবেই তৈরি হয়।
কিন্তু কাস্টম অর্ডারে দুটো জিনিস আগে থেকে পরিষ্কার না থাকলে ঝামেলা হয় — মাপ আর দাম কীভাবে ঠিক হবে। এই পাতায় ধাপে ধাপে লেখা আছে পুরো প্রক্রিয়াটা, কী কী লিখে রাখবেন, আর কোন জায়গাগুলোয় ভুল সবচেয়ে বেশি হয়।
কাস্টম অর্ডার কখন দরকার হয়
- মাপ মিলছে না — হার ছোট পড়ছে, চুড়ি ঢুকছে না, আংটি ঢিলে।
- ওজন বদলাতে চান — একই ডিজাইন কম ওজনে, বা বাজেটের মধ্যে।
- ক্যারেট বদলাতে চান — ২২-এর বদলে ২১ বা ১৮ ক্যারেটে, বিশেষ করে পাথর বসানো গহনায়।
- পুরনো গহনা ভেঙে নতুন বানাতে চান।
- ডিজাইনে ছোট পরিবর্তন — লকেট বদল, পাতার নকশা যোগ, জোড়ার সংখ্যা কমানো-বাড়ানো।
- জোড়া বা সেট মিলিয়ে বানানো — একই নকশায় হার, দুল ও আংটি।
ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া
| ধাপ | কী হয় | আপনার কাজ |
|---|---|---|
| ১. ডিজাইন ঠিক করা | ছবি, নমুনা গহনা বা দোকানের ক্যাটালগ দেখে নকশা বাছাই | ছবি পাঠান — একটার বদলে দু-তিনটে কোণ থেকে তোলা ছবি হলে সবচেয়ে ভালো |
| ২. ওজন ও ক্যারেট | কত আনা বা ভরি, আর কত ক্যারেটে বানানো হবে ঠিক হয় | বাজেট বললে ওজন বের করা সহজ হয়, উল্টোটাও হয় |
| ৩. মাপ নেওয়া | আংটির সাইজ, চুড়ির ব্যাস, হারের দৈর্ঘ্য | মাপ পাঠান বা দোকানে এসে নিন |
| ৪. খসড়া দাম | সোনার দাম + মজুরি + পাথর ধরে একটা হিসাব দেওয়া হয় | লিখে নিন — কোনটা কত, আলাদা করে |
| ৫. বায়না | অর্ডার নিশ্চিত করতে কিছু টাকা অগ্রিম | বায়নার রসিদ নিন, তাতে ওজন-ক্যারেট-ডিজাইন লেখা থাকবে |
| ৬. তৈরি হওয়া | কারিগর ছাঁচ বা হাতে গড়া শুরু করেন | মাঝপথে ডিজাইন বদলালে সময় ও মজুরি দুটোই বাড়ে |
| ৭. ডেলিভারি | ওজন মিলিয়ে, রসিদ লিখে হাতে দেওয়া | সামনে দাঁড়িয়ে ওজন দেখুন, রসিদ মিলিয়ে নিন |
দাম কীভাবে ঠিক হয়
কাস্টম অর্ডারের দাম তিন-চারটে আলাদা অংশের যোগফল। আলাদা করে না দেখলে পরে বদলাতে বা মিলিয়ে নিতে অসুবিধা হয়।
| অংশ | কীভাবে হিসাব হয় |
|---|---|
| সোনার দাম | নিট ওজন × সেদিনের বাজুস দর। আজ ২২ ক্যারেট — টাকা/গ্রাম, অর্থাৎ ১ ভরি ≈ — টাকা, ১ আনা ≈ — টাকা |
| মজুরি | সোনার দামের উপর শতকরা হিসাবে, নকশার জটিলতা অনুযায়ী আলাদা হয়। হাতে গড়া সূক্ষ্ম কাজে বেশি, ছাঁচে ঢালা সাধারণ নকশায় কম |
| পাথর | আলাদা দাম, আলাদা ওজন। পাথরের ওজন সোনার ওজনে ধরা যাবে না |
| ভ্যাট | ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এটি শতকরা নয় — সোনায় ভরি প্রতি ২,৫০০ টাকা নির্দিষ্ট, এবং বাজুসের প্রকাশিত দরে তা ধরাই আছে |
নিজের অর্ডারের একটা আন্দাজ পেতে গহনার মোট বিল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন — ওজন, ক্যারেট ও মজুরির হার বসিয়ে দিলেই মোট হিসাব চলে আসে। সর্বশেষ দর দেখুন আজকের সোনার দামের পাতায়।
বায়না দেওয়ার দিনের দর, না ডেলিভারির দিনের দর? এটাই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝির জায়গা। সোনার দর প্রতিদিন বদলায়, আর কাস্টম অর্ডারে এক-দুই সপ্তাহ লেগে যায় — এর মধ্যে দর ওঠা-নামা করতে পারে। অর্ডার নেওয়ার সময়ই জিজ্ঞেস করে নিন কোন দিনের দর ধরা হবে, আর উত্তরটা বায়নার রসিদে লিখিয়ে নিন। দোকান অনুযায়ী নিয়ম আলাদা হয়।
কত সময় লাগে
সময়টা নকশার জটিলতা, কারিগরের কাজের চাপ আর মৌসুমের উপর নির্ভর করে। বিয়ের মৌসুমে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি লাগে, তাই আগে অর্ডার দেওয়াই ভালো।
| ধরন | সাধারণত যা লাগে |
|---|---|
| আংটির সাইজ ছোট-বড় করা | ১–৩ দিন |
| সাধারণ আংটি বা কানের দুল নতুন বানানো | ৫–১০ দিন |
| চেইন বা সাধারণ চুড়ি | ৭–১২ দিন |
| নকশাদার বালা বা জোড়া চুড়ি | ১০–১৫ দিন |
| গলার হার, সীতাহার, পাথর বসানো সেট | ১৫–৩০ দিন, কখনও বেশি |
| পুরো বিয়ের সেট | ১ মাস বা তার বেশি — অন্তত দু-মাস আগে অর্ডার দিন |
এগুলো সাধারণ ধারণা, প্রতিশ্রুতি নয়। অর্ডারের সময় নির্দিষ্ট তারিখ জেনে নিন এবং রসিদে লিখিয়ে রাখুন।
মাপ — কী কী পাঠাতে হবে
আংটি
সবচেয়ে সহজ উপায় — পুরনো একটা আংটি আছে যা ঠিকমতো লাগে, সেটার ভেতরের ব্যাস মাপা বা সেটাই দোকানে দেখানো। সাইজের পূর্ণ তালিকা আছে আংটির মাপের পাতায়।
চুড়ি ও বালা
চুড়ির মাপ মানে ভেতরের ব্যাস, হাতের ঘের নয়। বাংলাদেশে প্রচলিত সাইজে দশমিকের পরের সংখ্যাটা ইঞ্চির আট ভাগের ভাগ বোঝায় — যেমন ২.৪ মানে আড়াই ইঞ্চি ব্যাস। বিস্তারিত নিয়ম ও বাড়িতে মাপার দুটো উপায় আছে গলার হার ও চুড়ির মাপ পাতায়।
গলার হার ও চেইন
হারের দৈর্ঘ্য ইঞ্চিতে দিতে হবে, আর সেটা ঠিক করার আগে গলার ঘের মাপতে হবে। একই গলার ঘেরে ১৬ ইঞ্চি হার গলায় চেপে বসে, ২২ ইঞ্চি বুকের ওপর নামে — দুটোই আলাদা লুক। মাপ বের করার নিয়ম ওই একই পাতায় আছে।
মাপ পাঠানোর সহজ উপায়। একটা সুতো বা কাগজের ফিতে দিয়ে ঘের মেপে, সুতোটা স্কেলের উপর রেখে ছবি তুলে পাঠিয়ে দিন। সংখ্যার চেয়ে ছবিটা বেশি নিশ্চিত — ভুল বোঝার আশঙ্কা কমে।
পুরনো গহনা ভেঙে নতুন বানানো
এটা আলাদা হিসাব। পুরনো গহনার ওজন থেকে কাটতি বাদ যায় (পাথর ও মজুরি বাদ দিয়ে), তারপর যে সোনা থাকে তার সঙ্গে প্রয়োজন মতো নতুন সোনা যোগ করে নতুন গহনা বানানো হয়। বাজুসের নোটিশে এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের কাটতির হার লেখা থাকে, আর বাস্তবে দোকান অনুযায়ী কিছু হেরফের হয়।
কত পড়বে তার হিসাব মিলিয়ে নিতে পুরনো সোনা বদল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন। পুরনো গহনার রসিদ থাকলে সঙ্গে নিয়ে যাবেন — ক্যারেট প্রমাণে কাজে লাগে।
অর্ডার নিশ্চিত করার আগে এই সাতটা লিখে রাখুন
- ডিজাইন — ছবি বা নমুনার রেফারেন্স
- ক্যারেট — ২২, ২১, ১৮ নাকি সনাতন
- আনুমানিক ওজন — আনা বা ভরিতে, আর কতটা হেরফের মানা যাবে
- মাপ — আংটির সাইজ / চুড়ির ব্যাস / হারের ইঞ্চি
- পাথর — থাকবে কি না, কোন পাথর, দাম ও ওজন আলাদা
- মজুরির হার এবং কোন দিনের সোনার দর ধরা হবে
- ডেলিভারির তারিখ ও বায়নার পরিমাণ
এই সাতটা বায়নার রসিদে থাকলে পরে কোনো কথার অমিল হয় না। রসিদে আর কী কী থাকা উচিত তার পুরো তালিকা সোনার রসিদের চেকলিস্ট পাতায়।
যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়
- ওজন না বলে শুধু বাজেট বলা। বাজেট ঠিক থাকলেও দর বদলালে ওজন কমে যায়। দুটোর একটা স্থির রাখুন।
- পাথরের ওজন সোনার ওজনে ধরা। পাথর সোনার চেয়ে হালকা বা ভারী হতে পারে; আলাদা না লিখলে পরে বিক্রির সময় হিসাব মেলে না।
- মাঝপথে ডিজাইন বদলানো। কাজ শুরু হয়ে গেলে বদলালে সময় ও মজুরি দুটোই বাড়ে, কখনও সোনা নষ্টও হয়।
- মাপ আন্দাজে দেওয়া। কাস্টম গহনায় সাইজ বদলানো মানে আবার কাজ — হারের ক্ষেত্রে অনেক সময় নতুন করে বানানো।
- বায়নার রসিদ না নেওয়া। মুখের কথায় অর্ডার দিলে ওজন বা ক্যারেট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রমাণ থাকে না।
- ডেলিভারির সময় ওজন না দেখা। হাতে গড়া গহনায় সামান্য হেরফের স্বাভাবিক, কিন্তু সেটা জেনে নেওয়া আপনার অধিকার।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
কাস্টম অর্ডারে কি দাম বেশি পড়ে?
সোনার দাম একই — ওজন আর ক্যারেট অনুযায়ী। তফাত হয় মজুরিতে: জটিল বা হাতে গড়া নকশায় মজুরি বেশি পড়ে, আর সাধারণ নকশায় দোকানে সাজানো গহনার সমানই হয়। তাই অর্ডার দেওয়ার আগে মজুরির হার আলাদা করে জেনে নেওয়া দরকার।
অর্ডার দেওয়ার পর সোনার দাম বাড়লে কী হবে?
এটা দোকানের নিয়মের উপর নির্ভর করে — কোথাও বায়নার দিনের দর ধরা হয়, কোথাও ডেলিভারির দিনের। তাই অর্ডার নেওয়ার সময়ই এটা জিজ্ঞেস করে রসিদে লিখিয়ে নিন। মুখের কথায় রাখলে পরে অমিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তৈরি গহনার ওজন অর্ডারের ওজনের সঙ্গে হুবহু মেলে?
হাতে গড়া গহনায় সাধারণত সামান্য হেরফের হয়, তাই অর্ডারের সময় ওজন "আনুমানিক" ধরা হয় এবং চূড়ান্ত দাম প্রকৃত ওজনের ভিত্তিতে হিসাব হয়। কতটা হেরফের মানা যাবে সেটা আগেই ঠিক করে নেওয়া ভালো।
ছবি দেখে হুবহু একই গহনা বানানো যায়?
কাছাকাছি বানানো যায়, হুবহু সবসময় নয় — ছাঁচ, কারিগরের হাত আর ওজনের তফাতে ছোট পার্থক্য থাকে। তাই ছবির সঙ্গে ওজন ও মাপ বলে দেওয়া ভালো, আর কোন অংশটা আপনার কাছে সবচেয়ে জরুরি সেটা আলাদা করে বলুন।
বায়না দিয়ে অর্ডার বাতিল করা যায়?
কাজ শুরুর আগে হলে সাধারণত সমঝোতা হয়, কিন্তু কাজ শুরু হয়ে গেলে মজুরি ও সোনার ক্ষয় হিসাবে আসে। নিয়মটা দোকান অনুযায়ী আলাদা, তাই বায়না দেওয়ার সময়ই বাতিলের শর্ত জেনে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
In English — Ordering Custom-Made Gold Jewellery in Bangladesh
Custom orders are the normal way wedding sets are made here. The process runs in seven steps: pick the design, fix the weight and karat, take the measurements, get an itemised estimate, pay an advance against a written receipt, wait while the piece is made, then check the weight at delivery and collect a full receipt.
The price is a sum of separate parts: gold (net weight × the BAJUS rate of the day — 22K is Tk — per gram today, about Tk — per vori), the making charge as a percentage of the gold value, stones priced and weighed separately, and VAT, which since FY2026-27 is a flat Tk 2,500 per vori already included in the published rate.
Two things cause most disputes. First, which day's gold rate applies — the advance date or the delivery date; ask and get it written on the receipt. Second, measurements; send a photo of a thread or paper strip against a ruler rather than only a number. Simple rings take about a week, patterned bangles ten to fifteen days, and a full wedding set a month or more, so order early in wedding season. Hand-made pieces vary slightly in weight, so the final price follows the actual weight.
কাস্টম অর্ডার নিয়ে কথা বলতে চান? ডিজাইনের ছবি, ওজনের ধারণা আর মাপ পাঠিয়ে দিন — আমরা হিসাব করে জানিয়ে দেব কত পড়বে আর কত দিন লাগবে।
স্বর্ণাঞ্জলী জুয়েলার্স, বগুড়া — +৮৮০১৭১০-৪৩৯৩৭৫
সারা বাংলাদেশে কুরিয়ারে হোম ডেলিভারি। বগুড়া ও শেরপুরে ক্যাশ অন ডেলিভারি। যোগাযোগের বিস্তারিত কনটাক্ট পাতায়।
এই পাতার সময় ও হিসাব সাধারণ ধারণার জন্য, প্রতিশ্রুতি নয় এবং কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। সোনার দাম প্রতিদিন বদলায় এবং হাতে গড়া গহনার ওজনে সামান্য হেরফের হতে পারে — চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত দিনের বাজারদর, প্রকৃত ওজন ও মজুরির ওপর নির্ভর করে। আরও গাইড দেখুন আমাদের গাইড পাতায়, আর হিসাবের জন্য ফ্রি টুলগুলো ব্যবহার করুন।









0 Reviews