"সোনার চেইনটা কালচে হয়ে গেছে", "আংটির নিচে আঙুলে কালো দাগ পড়ছে", "দুল পরলেই কান চুলকায়" — দোকানে এই তিনটে কথা সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। আর প্রায় প্রতিবারই সঙ্গে একটা প্রশ্ন থাকে: সোনাটা নকল নাকি?
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উত্তরটা না। খাঁটি সোনা নিজে মরচে ধরে না, কালোও হয় না — কিন্তু গহনা কখনও ১০০ ভাগ সোনা দিয়ে বানানো হয় না, আর কালচে ভাব বা দাগের কারণ সেই মিশ্রিত ধাতু, ঘাম আর প্রসাধনীর মধ্যে লুকিয়ে থাকে। এই পাতায় কারণগুলো একটা একটা করে দেখা যাক, আর কোন ক্ষেত্রে সত্যিই চিন্তার কারণ আছে সেটাও।
প্রথমে বুঝে নিন — গহনায় সোনা কতটা
২৪ ক্যারেট মানে প্রায় খাঁটি সোনা, কিন্তু সেটা এত নরম যে তা দিয়ে পরার গহনা হয় না। তাই গহনায় সোনার সঙ্গে তামা, রুপা, দস্তা বা নিকেল মেশানো হয় — শক্ত করতে আর রং আনতে।
| ক্যারেট | সোনা | মিশ্রিত ধাতু |
|---|---|---|
| ২২ ক্যারেট (৯১৬) | ৯১.৬% | প্রায় ৮.৪% |
| ২১ ক্যারেট (৮৭৫) | ৮৭.৫% | ১২.৫% |
| ১৮ ক্যারেট (৭৫০) | ৭৫% | ২৫% |
কালো হওয়ার আসল কারণ এই মিশ্রিত ধাতুর অংশটুকু। সোনা যত কম ক্যারেটের, মিশ্রিত ধাতু তত বেশি, আর কালচে হওয়ার প্রবণতাও তত বেশি। তাই ১৮ ক্যারেটের গহনা ২২ ক্যারেটের চেয়ে তাড়াতাড়ি রং হারায় — এটা দোষ নয়, ধাতুর স্বভাব। ক্যারেটের পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত আছে ক্যারেটের পার্থক্য গাইড পাতায়।
গহনা কালচে হওয়ার ছয়টা কারণ
১. ঘাম
ঘামে লবণ আর অ্যামোনিয়া থাকে। এগুলো সোনার সঙ্গে কিছু করে না, কিন্তু মিশ্রিত তামার সঙ্গে বিক্রিয়া করে পাতলা কালচে আস্তরণ ফেলে। যাঁরা বেশি ঘামেন, বা গরমে সারাদিন গহনা পরে থাকেন, তাঁদের গহনা তুলনামূলক তাড়াতাড়ি মলিন হয়।
২. প্রসাধনী, লোশন ও পারফিউম
ফাউন্ডেশন, সানস্ক্রিন, বডি লোশন — এগুলোতে অতি সূক্ষ্ম কণা থাকে যা ধাতুর গায়ে ঘষা লাগিয়ে পলিশ নষ্ট করে। পারফিউমে থাকে অ্যালকোহল, যা ধাতুর ওপর দাগ ফেলতে পারে। নিয়মটা সহজ: আগে প্রসাধনী, পরে গহনা।
৩. সাবান, শ্যাম্পু আর থালা ধোয়ার তরল
সাবানের অবশিষ্টাংশ নকশার খাঁজে জমে থাকে আর ধীরে ধীরে ধূসর ভাব আনে। চেইনের কড়া বা জালি কাজের গহনায় এটা সবচেয়ে বেশি হয়, কারণ ভেতরে জমা অংশ মোছা যায় না।
৪. ক্লোরিন
সুইমিং পুলের পানি আর কিছু পরিষ্কারক তরলে ক্লোরিন থাকে। ক্লোরিন কম ক্যারেটের সোনার মিশ্রিত ধাতুর ক্ষতি করে, এবং বারবার সংস্পর্শে এলে গহনা ভঙ্গুর হয়ে জোড়ার মুখে ফেটে যেতে পারে। পুলে নামার আগে গহনা খুলে রাখুন — এটা শুধু রঙের প্রশ্ন নয়।
৫. ঘরের বাতাস ও সংরক্ষণ
আলমারিতে কর্পূর, গন্ধনাশক বা স্যাঁতসেঁতে ভাব থাকলে ধাতুর গায়ে আস্তরণ পড়ে। গহনা আলাদা নরম কাপড়ে বা আলাদা খোপে রাখলে এটা অনেক কমে — সংরক্ষণের পরামর্শ পাতায় বিস্তারিত আছে।
৬. ওষুধ ও শারীরিক পরিবর্তন
কিছু ওষুধ, আর শরীরের হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘামের রসায়ন বদলে দিতে পারে। একই গহনা বছরের পর বছর ঠিক ছিল, হঠাৎ কালচে হতে শুরু করল — এমন হলে গহনা বদলায়নি, ঘামের রসায়ন বদলেছে।
ত্বকে কালো বা সবুজ দাগ — এটা আলাদা ব্যাপার
গহনা ঠিক আছে কিন্তু ত্বকে দাগ পড়ছে — এটা অন্য ঘটনা। সাধারণ কারণ দুটো।
ধাতব ঘর্ষণ। প্রসাধনীর কণা গহনার ধাতু থেকে অতি সূক্ষ্ম গুঁড়ো ঘষে তুলে নেয়, সেই গুঁড়ো ত্বকে লেগে কালো দেখায়। সাবান দিয়ে ধুলে উঠে যায়, ত্বকের কোনো ক্ষতি হয় না।
তামার বিক্রিয়া। ঘামের সঙ্গে মিশ্রিত তামা বিক্রিয়া করে সবুজাভ দাগ ফেলতে পারে। এটাও ক্ষতিকর নয় এবং ধুলে চলে যায়। কম ক্যারেটের গহনায় বেশি হয়, কারণ তামার পরিমাণ বেশি।
গহনার অ্যালার্জি — আসল কারণ সাধারণত নিকেল
সোনায় অ্যালার্জি খুব বিরল। গহনা থেকে ত্বকের প্রতিক্রিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ নিকেল — যা মিশ্রিত ধাতু হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে সাদা সোনায় আর কম ক্যারেটের গহনায়। এটা একধরনের কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস, অর্থাৎ ত্বক ধাতুর সংস্পর্শে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
- ক্যারেট বেশি হলে মিশ্রিত ধাতু কম, তাই ২২ ক্যারেটে প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে কম হয়
- ইমিটেশন বা গিল্টি গহনায় নিকেলের পরিমাণ অনেক বেশি থাকতে পারে
- নতুন ফোঁড়ানো কানে প্রতিক্রিয়া বেশি দেখা যায়, কারণ ক্ষত তখনও শুকোয়নি — এ নিয়ে আছে কান ও নাক ফোঁড়ানোর পর যত্ন পাতা
- ঘাম জমে থাকলে প্রতিক্রিয়া বাড়ে, কারণ ধাতু থেকে নিকেল ছাড়ার হার বেড়ে যায়
বাড়িতে যা করতে পারেন
- কুসুম গরম পানি আর এক ফোঁটা মাইল্ড সাবান — গহনা ১০–১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
- নরম ব্রাশ (শিশুর টুথব্রাশের মতো) দিয়ে খাঁজে আলতো করে বোলান।
- পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নরম সুতির কাপড়ে ভালো করে মুছে শুকিয়ে নিন — ভেজা অবস্থায় তুলে রাখলে আবার দাগ পড়ে।
যা করবেন না:
- টুথপেস্ট, বেকিং সোডা বা ছাই দিয়ে ঘষবেন না — এগুলো পলিশ তুলে ফেলে, দাগ বসে যায়
- ব্লিচ, ক্লোরিন বা অ্যামোনিয়াযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহার করবেন না
- পাথর বা মুক্তাবসানো গহনা ভেজাবেন না — আঠা আলগা হয়ে পাথর খুলে আসতে পারে
- খুব পাতলা বা জালি কাজের গহনায় ব্রাশ জোরে চালাবেন না
পরিষ্কারের বিস্তারিত নিয়ম আছে বাড়িতে সোনার গহনা পরিষ্কার পাতায়।
কখন দোকানে আনবেন
- বাড়িতে পরিষ্কার করার পরেও কালচে ভাব থেকে গেলে — পেশাদার পলিশে আসল উজ্জ্বলতা ফেরে
- নকশার খাঁজে জমে থাকা ময়লা নিজে তোলা না গেলে
- জোড়ার মুখে ফাটল বা আলগা ভাব দেখলে — এটা ক্লোরিনের ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে, দেরি করবেন না
- পাথর নড়লে বা বসার খাঁজ আলগা লাগলে
পলিশ ও মেরামত কীভাবে হয়, কত সময় লাগে — পলিশ ও মেরামত গাইড পাতায় আছে।
আর যদি সত্যিই সন্দেহ হয়
কালচে হওয়া নিজে নকল সোনার প্রমাণ নয় — আগেই দেখলাম, ২২ ক্যারেট সোনাও কালচে হতে পারে। কিন্তু কয়েকটা লক্ষণে সত্যিই যাচাই করা উচিত:
- ঘষা লাগা জায়গায় নিচ থেকে অন্য রঙের ধাতু বেরিয়ে আসছে — এটা গিল্টি বা প্লেটেড গহনার লক্ষণ
- গহনার গায়ে কোনো হলমার্ক বা ক্যারেটের খোদাই নেই
- রসিদে লেখা ক্যারেট আর গহনার খোদাই আলাদা
- ওজনের তুলনায় গহনাটা অস্বাভাবিক হালকা লাগছে
এই চারটের কোনোটা মিললে হলমার্ক যাচাই আর নকল সোনা চেনার উপায় পাতা দেখুন, এবং যে দোকান থেকে কিনেছেন সেখানে রসিদ নিয়ে যান। রসিদে কী কী থাকা দরকার তা আছে সোনার রসিদে কী কী থাকবে পাতায়।
In English — Why Gold Jewellery Darkens, and What a Skin Reaction Means
Pure gold does not rust or tarnish, but jewellery is never pure gold. To make it hard enough to wear, gold is alloyed with copper, silver, zinc or nickel: 22-karat is 91.6% gold, 21-karat 87.5%, 18-karat 75%. Almost everything people describe as "the gold going black" is happening to that alloy fraction, which is why lower-karat pieces dull faster than 22-karat ones. That is the nature of the metal, not a defect.
The usual causes are sweat (its salts and ammonia react with the copper in the alloy), cosmetics and perfume (fine particles abrade the polish; alcohol marks the surface — so put jewellery on after make-up, not before), soap residue trapped in the grooves of chains and filigree, and chlorine. Chlorine deserves separate mention: it attacks the alloy metals and repeated exposure can leave a piece brittle enough to crack at the joints, so take jewellery off before a swimming pool. Storage matters too, and so does the wearer — some medicines and hormonal changes alter sweat chemistry, which is why a piece that was fine for years can suddenly start to darken.
Marks on the skin are a different matter. Black smudges are usually metal dust lifted off by cosmetic particles; greenish marks are a copper reaction with sweat. Both wash off and neither harms the skin. A reaction is something else: redness, itching, sometimes small bumps, easing when the piece is left off. The usual culprit is nickel, not gold — nickel allergy is common, gold allergy is rare — and it is more likely in white gold, in lower-karat pieces and in imitation jewellery, and least likely in 22-karat. If redness or itching does not settle within a few days of leaving the piece off, if the area swells, if there is any discharge, or if the problem keeps returning, see a doctor. We are jewellers, not clinicians, and this page is not medical advice.
To clean at home: soak for 10–15 minutes in lukewarm water with a drop of mild soap, work the grooves gently with a soft brush, rinse and dry thoroughly with a soft cotton cloth. Do not use toothpaste, baking soda or ash — they strip the polish — do not use bleach, chlorine or ammonia-based cleaners, and do not soak stone-set or pearl pieces, where water can loosen the setting.
Darkening on its own is not evidence of fake gold. What does warrant a check: a different-coloured metal showing through where the surface has worn, no hallmark or karat stamp anywhere on the piece, a karat stamp that disagrees with the receipt, or a piece that feels unusually light for its stated weight.
গহনা কালচে হয়ে গেলে নিয়ে আসুন — পলিশ করে দেখে নিই। বগুড়ার বাইরে হলে ছবি পাঠালে আমরা বলে দিতে পারি বাড়িতে পরিষ্কারেই চলবে কি না।
স্বর্ণাঞ্জলী জুয়েলার্স, বগুড়া — +৮৮০১৭১০-৪৩৯৩৭৫
সারা বাংলাদেশে কুরিয়ারে হোম ডেলিভারি। বগুড়া ও শেরপুরে ক্যাশ অন ডেলিভারি। যোগাযোগ কনটাক্ট পাতায়।
এই পাতার তথ্য সাধারণ ধারণার জন্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ত্বকের কোনো প্রতিক্রিয়া স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আরও গাইড দেখুন আমাদের গাইড পাতায়।









0 Reviews