দোকানে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা শুনি, সেটা দাম নিয়ে নয় — "এটা কি আসল সোনা?" কারণ বাজারে এখন চার রকম জিনিস একই রকম দেখতে: আসল সোনার গহনা, গোল্ড প্লেটেড, রোল্ড গোল্ড আর ইমিটেশন। ছবিতে চারটের তফাত ধরা যায় না, দামে তফাতটা দশ-বিশ গুণ।
এই পাতায় সহজ ভাষায় লেখা আছে — কোনটায় সোনা কতটুকু থাকে, দাম কেন এত আলাদা, আর কেনার আগে কী দেখে নিশ্চিত হবেন। কোনো ব্র্যান্ড বা দোকানের নাম নেই, শুধু কীভাবে চিনবেন সেটাই।
চার রকম "সোনালি" গহনা — তফাত কোথায়
| ধরন | ভেতরে কী | সোনার স্তর | কতদিন রঙ থাকে | বিক্রি করে দাম পাওয়া যায়? |
|---|---|---|---|---|
| আসল সোনার গহনা (২২/২১/১৮ ক্যারেট, সনাতন) | পুরোটাই সোনার খাদ-মিশ্রণ | স্তর নয়, গোটা গহনাই | আজীবন — পলিশ করালে নতুনের মতো | হ্যাঁ, ওজন ও ক্যারেট ধরে |
| রোল্ড গোল্ড / গোল্ড ফিল্ড | পিতল বা তামার কোর | মোটা স্তর, সাধারণত মোট ওজনের ১/২০ ভাগ সোনা | অনেক বছর, নিয়মিত পরলেও | না, সোনার দামে নয় |
| গোল্ড প্লেটেড | পিতল, তামা বা রুপা | খুব পাতলা — সাধারণত ০.৫ থেকে ৩ মাইক্রন | কয়েক মাস থেকে দু-তিন বছর | না |
| ইমিটেশন / আর্টিফিশিয়াল | পিতল, দস্তা, মিশ্র ধাতু | সোনা নেই, শুধু সোনালি রঙ বা ল্যাকার | কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস | না |
মূল কথাটা এক লাইনে: আসল সোনার গহনায় সোনা একটা "স্তর" নয় — গোটা গহনাটাই সোনা। বাকি তিনটায় সোনা থাকলেও সেটা উপরের একটা আস্তরণ, আর সেই আস্তরণের নিচে অন্য ধাতু।
সোনার পরিমাণ আসলে কতটুকু
হিসাবটা করলে তফাতটা পরিষ্কার হয়ে যায়।
- ২২ ক্যারেট সোনা — ১,০০০ ভাগে ৯১৬ ভাগ খাঁটি সোনা। ১ ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) গহনায় সোনার পরিমাণ প্রায় ১০.৬৮ গ্রাম।
- ২১ ক্যারেট — ৮৭৫ ভাগ, ১৮ ক্যারেট — ৭৫০ ভাগ। সনাতন পদ্ধতিতে এর চেয়ে কম।
- রোল্ড গোল্ড — মোট ওজনের ১/২০ অর্থাৎ ৫% সোনা হলে, ১১.৬৬৪ গ্রামের একটা গহনায় সোনা মাত্র ০.৫৮ গ্রাম।
- গোল্ড প্লেটেড — ২ মাইক্রন পুরু স্তরে সোনার পরিমাণ সাধারণত গহনার ওজনের ১% এরও কম। অনেক ক্ষেত্রে ০.১% এর ঘরে।
- ইমিটেশন — শূন্য।
"১ গ্রাম গোল্ড" লেখা গহনা কী? বাজারে কিছু ইমিটেশন গহনা "এক গ্রাম সোনা" নামে বিক্রি হয়। নামটা বিভ্রান্তিকর — এতে এক গ্রাম সোনা থাকে না। ওটা একটা প্লেটিং পদ্ধতির নাম, যেখানে পিতলের গহনার উপর খুব পাতলা সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। দাম দেখেই বোঝা যায়: এক গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দামই আজ — টাকা।
দাম কেন এত আলাদা
আজকের বাজুস দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার দাম — টাকা প্রতি গ্রাম, অর্থাৎ ১ ভরি ≈ — টাকা এবং ১ আনা ≈ — টাকা (মজুরি ও পাথরের দাম আলাদা)। এই দর প্রতিদিন বদলায় — আজকের সোনার দামের পাতায় সবসময় সর্বশেষ দর থাকে।
তাই একটা ৪ আনা ওজনের ২২ ক্যারেট আংটির সোনার দামই — টাকার আশপাশে পড়ে। একই রকম দেখতে একটা গোল্ড প্লেটেড আংটি তিনশো-পাঁচশো টাকায় পাওয়া যায়। দামের এই ফারাকটাই সবচেয়ে বড় সংকেত — সোনার দরের ধারেকাছে না হলে সেটা সোনার গহনা নয়।
নিজের গহনার হিসাব মিলিয়ে নিতে গহনার মোট বিল ক্যালকুলেটর বা কত আনা সোনার দাম কত পাতাটা ব্যবহার করতে পারেন।
কীভাবে বুঝবেন কোনটা আসল
সবচেয়ে কাজের তিনটে সংকেত এই পাতার বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত — বাকি পরীক্ষাগুলো আলাদা করে লেখা আছে নকল সোনা চেনার উপায় পাতায়।
১. দাম — সবচেয়ে বড় সংকেত
এটাই প্রথম ছাঁকনি। আজকের দরে ২২ ক্যারেটের এক গ্রাম সোনাই — টাকা। তাই একটা "সোনার" আংটি কয়েকশো টাকায় বিক্রি হলে ক্যারেট বা ছাপ দেখার দরকারই পড়ে না — ওটা সোনার গহনা নয়। সোনার দরের ধারেকাছে না হলে সেটা প্লেটেড বা ইমিটেশন।
২. ক্যারেটের ছাপ — কিন্তু কী লেখা আছে সেটাই আসল কথা
আসল সোনার গহনায় ভেতরের দিকে ছোট করে ৯১৬, ৮৭৫ বা ৭৫০ লেখা থাকে — যথাক্রমে ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট। শুধু "Gold", "GP", "GEP", "GF" বা "1 Gram Gold" লেখা থাকলে সেটা ক্যারেটের ছাপ নয় — GP/GEP মানে প্লেটেড, GF মানে গোল্ড ফিল্ড অর্থাৎ রোল্ড গোল্ড। বিশুদ্ধতার সংখ্যাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আছে বিশুদ্ধতা ৯১৬/৮৭৫/৭৫০ পাতায়, আর হলমার্ক ও বিএসটিআই নিয়ে হলমার্ক যাচাইয়ের পাতায়।
৩. ঘষা লাগা জায়গায় নিচের ধাতু দেখা যাচ্ছে কি
প্লেটেড গহনায় সবচেয়ে আগে রঙ ওঠে যেখানে ঘষা লাগে — আংটির ভেতরের দিক, চেইনের আংটা, কানের দুলের হুক, চুড়ির কিনারা। ওখানে সোনালি রঙের নিচে সাদা বা লালচে ধাতু দেখা গেলে ব্যাপারটা পরিষ্কার। আসল সোনার গহনা কালচে হতে পারে, কিন্তু নিচে অন্য রঙের ধাতু বেরোয় না — কালচে হওয়ার কারণগুলো আলাদা করে লেখা আছে গহনা কালো হয় কেন পাতায়।
আর রসিদটা
ছাপ নকল করা সম্ভব, দাম নিয়ে কথা হতে পারে — কিন্তু রসিদে ক্যারেট ও নিট ওজন আলাদা করে লেখা থাকলে পরে বদলানো বা বিক্রি করার সময় সেটাই প্রমাণ। "জুয়েলারি — ১টি" লিখে একটা মোট টাকা বসানো রসিদ কাজে লাগে না। কী কী থাকা উচিত তার পুরো তালিকা আছে সোনার রসিদের চেকলিস্ট পাতায়।
বাড়িতে যা করবেন না। অ্যাসিড দিয়ে নিজে পরীক্ষা করতে যাবেন না — নাইট্রিক অ্যাসিড চামড়া ও চোখের জন্য বিপজ্জনক। গহনা কেটে, ঘষে বা পুড়িয়ে দেখার চেষ্টাও করবেন না; আসল হলে ক্ষতিটা স্থায়ী হবে আর বিক্রির সময় দাম কমে যাবে। নিশ্চিত হতে চাইলে একটা নিরপেক্ষ দোকানে টাচস্টোন বা XRF পরীক্ষা করিয়ে নিন — ওতে গহনা নষ্ট হয় না।
কোনটা কখন নেওয়া ভালো
- আসল সোনা — বিয়ে, উপহার, সঞ্চয়, আজীবন ব্যবহারের গহনা। এটাই একমাত্র ধরন যেটা পরে ওজন ধরে বদলানো বা বিক্রি করা যায়।
- রোল্ড গোল্ড — রোজ পরার হালকা গহনা, যেখানে সোনার দাম দিতে চান না কিন্তু রঙ টেকা দরকার।
- গোল্ড প্লেটেড — এক-দুই মৌসুমের ফ্যাশন, বড় ডিজাইনের গহনা যেটা আসল সোনায় বানালে ওজন ও দাম দুটোই অনেক বেড়ে যেত।
- ইমিটেশন — এক-দুই অনুষ্ঠানের জন্য, বা ভ্রমণে আসল গহনা সঙ্গে না নেওয়ার বিকল্প হিসেবে।
ইমিটেশন বা প্লেটেড গহনা খারাপ কিছু নয় — সমস্যা হয় তখনই, যখন সেটাকে আসল সোনার দামে বিক্রি করা হয়। জেনে কিনলে কোনো অসুবিধা নেই।
কেনার সময় যে পাঁচটা কথা জিজ্ঞাসা করবেন
- এটা কত ক্যারেট? ২২, ২১, ১৮ নাকি সনাতন?
- নিট ওজন কত — পাথর বাদ দিয়ে?
- রসিদে ক্যারেট আর ওজন আলাদা করে লেখা হবে তো?
- মজুরি কত পারসেন্ট, আর সেটা দামে ধরা আছে না আলাদা?
- পরে বদলাতে চাইলে কত কাটতি যাবে?
এই পাঁচটার উত্তর স্পষ্ট পেলে বাকিটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পুরনো গহনা বদলের হিসাব দেখতে পুরনো সোনা বদল ক্যালকুলেটর দেখতে পারেন।
KDM আর ৯১৬ নিয়ে বিভ্রান্তি
অনেকে ভাবেন KDM মানে একটা আলাদা ক্যারেট। আসলে তা নয় — KDM ছিল জোড়া লাগানোর পুরনো একটা পদ্ধতির নাম, যেখানে ক্যাডমিয়াম মেশানো হতো। স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণে এখন তার বদলে অন্য মিশ্রণ ব্যবহার হয়। তাই KDM লেখা থাকলেও ক্যারেট আলাদা করে জেনে নিতে হবে — ৯১৬ মানে ২২ ক্যারেট, এটাই আসল তথ্য।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
গোল্ড প্লেটেড গহনা বিক্রি করে টাকা পাওয়া যায়?
সোনার দামে নয়। প্লেটিংয়ের স্তরে সোনার পরিমাণ এত কম যে গলিয়ে আলাদা করা লাভজনক হয় না। তাই প্লেটেড বা ইমিটেশন গহনা কেনার সময় ধরে নিতে হবে, এর পুনর্বিক্রয় মূল্য নেই।
রোল্ড গোল্ড আর গোল্ড প্লেটেডের মধ্যে কোনটা ভালো?
রোল্ড গোল্ডে সোনার স্তর অনেক মোটা, তাই রঙ অনেক বেশি দিন থাকে এবং চামড়ায় প্রতিক্রিয়া কম হয়। দামও প্লেটেডের চেয়ে বেশি। রোজ পরার গহনার জন্য রোল্ড গোল্ড বেশি টেকে, তবে দুটোর কোনোটাই সোনার দামে বিক্রি হয় না।
৯১৬ লেখা থাকলেই কি নিশ্চিন্ত?
ছাপটা একটা ভালো সংকেত, কিন্তু ছাপ নকল করাও সম্ভব। তাই ছাপের সঙ্গে রসিদে লেখা ক্যারেট-ওজন এবং দামের যুক্তি — তিনটে একসঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন। সন্দেহ হলে নিরপেক্ষ দোকানে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
প্লেটেড গহনা পরলে চামড়া কালো হয় কেন?
পাতলা স্তর ক্ষয়ে গেলে নিচের পিতল বা তামা ঘামের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, আর সেই যৌগ চামড়ায় কালচে দাগ ফেলে। দাগটা ক্ষতিকর নয় এবং ধুলেই ওঠে, কিন্তু এটাই সংকেত যে প্লেটিং শেষ হয়ে এসেছে।
ইমিটেশন গহনা কি চুম্বকে আটকায়?
সবসময় নয়। পিতল ও দস্তার তৈরি ইমিটেশন চুম্বকে আটকায় না, কিন্তু লোহা বা নিকেল থাকলে আটকায়। তাই চুম্বকে আটকালে নিশ্চিতভাবে সোনা নয়, কিন্তু না আটকালে আসল সোনা — এই উল্টো সিদ্ধান্তটা ভুল।
In English — Gold Plated vs Rolled Gold vs Imitation vs Real Gold
Four very similar-looking things are sold side by side in Bangladesh. Real gold jewellery is gold all the way through, stamped 916 (22K), 875 (21K) or 750 (18K), and it can be resold or exchanged by weight. Rolled gold (gold filled) has a brass core with a thick gold layer, usually about 1/20 of the total weight. Gold plated carries a very thin layer, typically 0.5 to 3 microns, over brass, copper or silver. Imitation has no gold at all, only a golden colour or lacquer.
Price is the clearest signal. BAJUS 22K gold is Tk — per gram today, so 1 vori works out at about Tk — before making charge and stones. Anything priced far below that is not a gold item, whatever the name on the label. Check the karat stamp, insist on a receipt that states karat and net weight separately, and get an independent acid or XRF test if you are unsure. Do not test with acid yourself and do not cut, file or burn a piece to check it.
"1 gram gold" jewellery is a plating method, not one gram of gold. KDM is an old soldering method, not a karat grade — always ask for the karat separately.
সন্দেহ হলে দেখিয়ে নিন। গহনার ছবি আর রসিদ পাঠালে আমরা দেখে বলে দিতে পারি কী দেখা দরকার। ক্যারেট পরীক্ষার জন্য নিরপেক্ষ দোকানেও পাঠাতে পারেন।
স্বর্ণাঞ্জলী জুয়েলার্স, বগুড়া — +৮৮০১৭১০-৪৩৯৩৭৫
সারা বাংলাদেশে কুরিয়ারে হোম ডেলিভারি। বগুড়া ও শেরপুরে ক্যাশ অন ডেলিভারি। যোগাযোগের বিস্তারিত কনটাক্ট পাতায়।
এই পাতার তথ্য সাধারণ ধারণার জন্য, কোনো বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। সোনার দাম প্রতিদিন বদলায়; চূড়ান্ত দাম কেনার দিনের বাজারদর, প্রকৃত ওজন ও মজুরির ওপর নির্ভর করে। আরও গাইড দেখুন আমাদের গাইড পাতায়, আর হিসাবের জন্য ফ্রি টুলগুলো ব্যবহার করুন।









0 Reviews